প্রতিরোধেই মিলবে স্ট্রোকের প্রতিকার

স্ট্রোকের এক-তৃতীয়াংশ অত্যন্ত বিপজ্জনক, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ফলে মৃত্যুর হার ৫০ শতাংশ। প্রথম ৪৮ ঘণ্টা ধীরে ধীরে রক্তক্ষরণ হয়ে থাকে, পরে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে যায়। ৬০ বছরের বেশি বয়সের মানুষের মধ্যে স্ট্রোক মৃত্যুর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কারণ। বিশ্বে প্রতি ছয়জনে একজন এবং প্রতি ছয় সেকেন্ডে কোথাও না-কোথাও কেউ স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ স্ট্রোকে মারা যায় এবং এই সংখ্যা এইডস, ম্যালেরিয়া ও টিবির সম্মিলিত মৃত্যুর সংখ্যা থেকেও বেশি।


স্ট্রোক কী?
স্ট্রোককে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় সেরিব্রোভাসকুলার অ্যাকসিডেন্ট বলা হয়। সেরিব্রাল অর্থাৎ মস্তিষ্ক, ভাসকুলার অর্থ রক্তনালি এবং অ্যাকসিডেন্ট মানে দুর্ঘটনা। সুতরাং মস্তিষ্কের রক্তবাহী নালির দুর্ঘটনাকেই স্ট্রোক বলা যায়। আমাদের দেশে প্রচলিত একটি ধারণা আছে যে স্ট্রোক একটি হূৎপিণ্ডের রোগ, বাস্তবে এ কথা মোটেই সত্য নয়। স্ট্রোক সম্পূর্ণই মস্তিষ্কের রক্তনালির জটিলতাজনিত রোগ।

স্ট্রোকের ১০ কারণ?
উচ্চরক্তচাপ ও অনিয়মিতভাবে উচ্চরক্তচাপের ওষুধ সেবন স্ট্রোকের সব থেকে বড় কারণ—
 ধূমপান, জর্দা, তামাক বা গুল সেবন।
 অতিরিক্ত টেনশন বা মানসিক চাপে থাকা।
 হূদেরাগ, যেমন—হার্ট অ্যাটাক, এট্রিয়াল ফিব্রিলেশন, ভাল্ব প্রতিস্থাপন, হার্টে জন্মগত ছিদ্র।
 অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস।
 স্ট্রোকের পারিবারিক ইতিহাস, পুরুষ এবং বয়স্কদের অধিক মাত্রায় ঝুঁকি দেখা যায়।
 রক্তে বেশি মাত্রায় চর্বি, অতিরিক্ত মোটা হওয়া, অতিরিক্ত মাত্রায় কোমল পানীয় গ্রহণ।
 কেউ কেউ জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়িকেও এর কারণ হিসেবে অভিহিত করেন। প্রসবকালীন একলাম্পশিয়া নামের জটিলতা হলে স্ট্রোকের আশঙ্কা বেড়ে যায়।
 কিছু কিছু ওষুধ বা রোগের কারণে রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা কমে যেতে পারে, যেমন—অ্যাসপিরিন, ক্লপিডগ্রেল প্রভৃতি ব্যবহারে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
 মাদক সেবনকারীর রক্তক্ষরণের হার বেশি দেখা যায়।
স্ট্রোকের এক-তৃতীয়াংশ অত্যন্ত বিপজ্জনক, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ফলে মৃত্যুর হার ৫০ শতাংশ। প্রথম ৪৮ ঘণ্টা ধীরে ধীরে রক্তক্ষরণ হয়ে থাকে, পরে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে যায়।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এসব রক্ত এক-দুই মাসের ভেতর শুকিয়ে যায়। মস্তিষ্কের অনেকখানি জায়গাজুড়ে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে রোগী শুরুতেই মারা যেতে পারে। স্ট্রোকের পাশাপাশি হূৎপিণ্ড বা ঘাড়ের রক্তনালি বন্ধ থাকলে পরবর্তী এক বছরের ভেতর ৫ থেকে ১৫ শতাংশ রোগীর আবার স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
স্বল্পমাত্রার স্ট্রোকের রোগী ২৪ ঘণ্টার ভেতর সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে যায়।

প্রয়োজনীয় পরীক্ষাসমূহ
কিছু রুটিন পরীক্ষার পাশাপাশি সব রোগীর জন্য অবশ্যই সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করতে হবে। রক্তক্ষরণ হলে সিটি স্ক্যানে সাদা দেখায় আর রক্ত সরবরাহ কমে গেলে সিটি স্ক্যানে সেই জায়গা কালো দেখা যায়। আক্রান্ত জায়গার চারপাশে পানি জমে ইডিমা হলে কালো দেখায়। এই ইডিমা চারপাশের মস্তিষ্কের ওপর আরও বেশি চাপ দেয়। ইস্কেমিক স্ট্রোকের প্রথম ছয় ঘণ্টাকে হাইপার একিউট বলা যায়। এ সময়ে বেশ কিছুসংখ্যক রোগীর সিটি স্ক্যানে কিছু সমস্যা পওয়া যায় না, সেসব ক্ষেত্রে পুনরায় স্ক্যান করতে হয়। এমআরআই (ডিডব্লিউআই) করে স্ট্রোক ও তার চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা পাওয়া যায়। ঘাড়ের রক্তনালিতে কোনো ব্লক আছে কি না জানার জন্য ঘাড়ের রক্তনালির ডপলার, হার্টের সমস্যার জন্য ইকো পরীক্ষা করা উচিত। রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা পরীক্ষা করে নিতে হবে। প্রয়োজনে এনজিওগ্রাম পরীক্ষাও করতে হবে। এ ছাড়া রক্তের চর্বির পরিমাণ, রক্তের গ্লুকোজ, স্ট্রোকের প্রবণতা বোঝার জন্য কিছু মার্কার দেখা যেতে পারে।
স্ট্রোকে সাধারণত ব্রেনের নিচের দিকের ব্যাজাল গ্যাংলিয়া এবং থ্যালামাস নামক জায়গা বেশি আক্রান্ত হয়, বাকি মস্তিষ্কে যেকোনো জায়গায়ই স্ট্রোক হতে পারে। ব্রেনস্টেমের স্ট্রোক সর্বাধিক বিপজ্জনক, কারণ ব্রেন স্টেমে শ্বাস-প্রশ্বাস, হূৎপিণ্ডের চলাচল ও জ্ঞানরক্ষার কেন্দ্র অবস্থিত।

হঠাৎ স্ট্রোক হলে?
 রোগীকে কাত করে শুইয়ে দেবেন।
 এ অবস্থায় কোনো খাবার বা ওষুধ মুখে দেবেন না। কারণ, এগুলো শ্বাসনালিতে ঢুকে আরও ক্ষতি করে।
 বরং মুখে জমে থাকা লালা, বমি সুন্দর করে পরিষ্কার করে দিতে হবে।
 টাইট জামা কাপড় ঢিলা করে দিন।
 হাসপাতালে যাওয়ার সময় খেয়াল করে রোগীর আগের চিকিৎসার ফাইল সঙ্গে
নিয়ে নিন।

কেন অতিসত্বর চিকিৎসা করাতে হবে?
স্ট্রোক হলে আক্রান্ত এলাকার মস্তিষ্ক কোষের বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন প্রভৃতি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। রক্ত সরবরাহ দুই মিনিটের বেশি বন্ধ থাকলে স্নায়ুকোষ স্থায়ীভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। আক্রান্ত এলাকার চারদিকে একটি প্রচ্ছায়া বলয়ের সৃষ্টি হয়, দ্রুত চিকিৎসায় প্রচ্ছায়া বলয়কে রক্ষা করা সম্ভব হয়।

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে তিন হ্যাঁ আর দুই না বলে এক হাতের পাঁচ আঙুল তুলে ধরি—
হ্যাঁ বলুন
 নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে (কমপক্ষে ৪৫ মিনিট হাঁটবেন)। ব্যায়াম করে কয়েক কেজি বাড়তি ওজন ঝেড়ে ফেলা যাক।
 যেকোনো পরিবেশে হাসিখুশি থাকুন
 দুশ্চিন্তা দূরে সরিয়ে রাখুন।
ইচ্ছামতো খাওয়া যাবে
 শাকসবজি
 অল্প ভাত
 পাঙাশ, চিংড়ি, কাঁকড়া বাদে যেকোনো মাছ
 বাচ্চা মুরগি
 ডিমের সাদা অংশ খেতে পারেন।
না বলুন
 ধূমপান, জর্দা, তামাক বা গুলকে না বলুন।
খাওয়া যাবে না—
 চর্বি (তেলযুক্ত খাবার) ও শর্করা (মিষ্টি খাবার)-যুক্ত খাবারকে অপছন্দ করুন।
 ফাস্টফুড, বাদাম
 সন্দেশ, রসগোল্লাজাতীয় মিষ্টি।
 দুধ, ঘি, পোলাও, বিরিয়ানি
 পাঙাশ, চিংড়ি, কাঁকড়া
 গরু বা খাসির মাংস
 নারকেল বা নারকেলযুক্ত খাবার
 ডিমের কুসুম প্রভৃতি রসনাযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত নয়।

স্বাস্থ্য সংক্রান্ত এ ধরনের আরও অসংখ্য ফিচার দেখতে এখানে একবার ঢু মারতে পারেন
৭ টি মন্তব্য
mdmazarulislamসৈয়দ মাজারুল ইসলাম(রুবেল)০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৫৭
ধন্যবাদ সর্তকতামূলক পোস্টের জন্য।
shahidulhaque77শাহিদুল হক০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৫৯
ধন্যবাদ আর শুভকামনা রইল।
jamalhossainsজামাল হোসেন সেলিম০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:০৪
জীবন রক্ষাকারী অতি প্রয়োজনীয় একটি পোষ্ট যা লেখক সহজ ভাষায় আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। অনেক অজানা তথ্য জানলাম এবং বুঝতে পারলাম। ধন্যবাদ কবির ৭৭৭।
fardoushaফেরদৌসা০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:৫১
অনেক কিছুই জানা হল। 

কিন্তু আমি যা কিছু হালাল সব কিছুই খায় এবং খাব।
bonofolএইচ এম শরীফ উল্লাহ০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৫১
হুম! বুঝবার পারছি! রসনা বিলাসী তাই
bonofolএইচ এম শরীফ উল্লাহ০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৫১
ধন্যবাদ প্রয়োনীয় পোস্ট টি শেয়ার করার জন্য।
শুভেচ্ছা।
bonofolএইচ এম শরীফ উল্লাহ০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৫২
ধন্যবাদ প্রয়োজনীয় পোস্ট টি শেয়ার করার জন্য।
শুভেচ্ছা জানবেন।

সীমান্তহত্যায় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাফাই গাইলেও প্রতিবাদ করলেন মমতা

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
6
পরের সংবাদ»
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর ‘আত্মরক্ষার প্রয়োজনে’ সীমান্তে গুলি চালানোর অনুমতি দিয়ে এলেও বিএসএফের বর্বরতার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
বর্বর বিএসএফ শুধু নির্বিচারে নিরপরাধ বাংলাদেশীদেরই হত্যা করে করে না, মূলত ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে অনেক ভারতীয় নাগরিকও এই বাহিনীর হাতে মারা যায়। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও শালিস কেন্দ্রের হিসাবে, ২০১২ সালে বিসএফের হাতে অন্তত ৪৮ বাংলাদেশী নাগরিক নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে এই সময়ে বাংলাদেশ-পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আমাদের কলকাতা প্রতিনিধি জানান, বিএসএফের গুলিতে পশ্চিমবঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে তা বন্ধের দাবিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একটি প্রতিবাদপত্র পাঠাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী বিএসএফকে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে এবং এই বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ জানাবেন। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে রয়েছে বিএসএফ।
নতুন বছরের প্রথম দু’দিনে বিএসএফের গুলিতে চার বাংলাদেশী নিহত হওয়ার পর গত বুধবার সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, তার ভারত সফরে কেবল ‘আত্মরক্ষার প্রয়োজনে’ দুই সীমান্ত বাহিনীকে গুলি করার বিষয়ে নীতিগতভাবে মতৈক্য হয়েছে। তার ভাষায়, ‘গত মাসে ভারতে গিয়ে সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে একমত হয়েছি।’ তিনি একই সঙ্গে বলেন, ‘কোনো পক্ষ থেকেই গুলি চালাবে না, যদি না আত্মরক্ষার প্রয়োজন হয়।’
তবে দেশের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খান গত বৃহস্পতিবার বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন, বিএসএফের হাতে নিরস্ত্র বাংলাদেশীরাই নিহত হয়ে থাকে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দু’দেশের সীমান্তরক্ষীদের গুলি চালানোর ব্যাপারে একমত হলেও একের পর এক নিরীহ বাংলাদেশী মারা যাচ্ছে শুধুই বিএসএফের গুলিতে। বিজিবির গুলিতে ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা একেবারেই বিরল।
সীমান্তে হত্যাকাণ্ড শূন্যে নামিয়ে আনা হবে বলে ভারত বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরিসংখ্যান বলছে সাম্প্রতিক সময়ে হতাহতের ঘটনা বেড়েই চলেছে। আওয়ামী লীগ ঘেঁষা মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র গত ৩১ ডিসেম্বর জানায়, ২০১২ সালে সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক ৩১৯টি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ১৫৫টি। ২০১২ সালে ৪৮ জন নিহত হওয়া ছাড়াও ১০৬ জন আহত এবং ১৪০ জন অপহৃত হন বলে মানবাধিকার সংগঠনটি জানায়।
বিদায়ী বছরে গুলি ছোড়ার পাশাপাশি হাতবোমা নিক্ষেপ, ঘরে ঢুকে নির্যাতন, গাছে ঝুলিয়ে পেটানো, বেয়নেটে খুঁচিয়ে জখম, হাত-পা ভেঙে দেয়া, উলঙ্গ করে পেটানো, কুপিয়ে হত্যার মতো ঘটনা ঘটিয়ে বিএসএফ নির্যাতনের নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মন্তব্য করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র।

নিত্যপণ্যের দাম ৪ বছরে তিনগুণ

কাজী জেবেল
« আগের সংবাদ
46
পরের সংবাদ»
নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী দামে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের চার বছরে বিভিন্ন পণ্যের দাম দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। ঈদসহ বিভিন্ন উত্সবে বাজারে পণ্যমূল্য আকস্মিকভাবে বাড়া ছাড়াও বেশি ব্যবহার করা পণ্যগুলোর দাম কয়েক দফায় বেড়েছে। খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম বেশি বেড়েছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন কোম্পানি ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়েছে। পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক গুণ বেড়ে গেছে। এ সময়ে বাড়িভাড়া, পরিবহন, শিক্ষা ও অন্যান্য ব্যয় কয়েকগুণ বেড়েছে। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে টিসিবিকে কার্যকর না করা, বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয়া, সিন্ডিকেট কারসাজি, পণ্য সরবরাহ কম থাকা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিসহ আরেক কয়েকটি কারণকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অথচ ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ইশতেহারে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়ানোর স্লোগান দিয়েছিলেন।
নির্বাচনের ইশতেহারে অগ্রাধিকারভিত্তিক পদক্ষেপ তালিকায় দ্রব্যমূল্য কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি ছিল প্রথম স্থানে। ইশতেহারের ১.১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘দ্রব্যমূল্যের দুঃসহ চাপ প্রশমনের লক্ষ্যে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে স্থিতিশীল রাখার ব্যবস্থা করা হবে। দেশজ উত্পাদন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সময়মতো আমদানির সুবন্দোবস্ত, বাজার পর্যবেক্ষণসহ বহুমুখী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মজুতদারি ও মুনাফাখোরি সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়া হবে, চাঁদাবাজি বন্ধ করা হবে। ‘ভোক্তাদের স্বার্থে ভোগ্যপণ্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ’ গড়ে তোলা হবে। সর্বোপরি সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য সৃষ্টি করে দ্রব্যমূল্য কমানো হবে ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা হবে।’
সরকারের চার বছর মেয়াদের শেষে এসে দেখা যাচ্ছে, খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ায় জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। জীবনধারণের জন্য যেটুকু প্রয়োজন, তা মেটাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। বিলাসী সামগ্রীর ব্যবহার প্রায় ভুলতে বসেছেন। আয়ের সঙ্গে ভারসাম্য রাখতে গিয়ে নিত্য কাটছাঁট করতে হচ্ছে খাদ্যতালিকা। যদিও সরকারের মন্ত্রীরা বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, দেশের মানুষ ভালো আছে, দিনে চার-পাঁচ বেলা খাচ্ছে। অপরদিকে জাতীয় সংসদে কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হওয়ার তথ্য দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
এদিকে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। মহাজোট সরকারের চার বছরে মূল্যস্ফীতির হার প্রায়ই ওঠা-নামা করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের মাস। ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী ২০০৯-১০ অর্থবছরে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ। ২০১০-১১ অর্থবছরে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়ায় ১০ দশমিক ৯১ শতাংশ ও ২০১১-১২ অর্থবছরে তা ছিল ৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের নভেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বিগত ২০ বছরের মধ্যে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের জরুরি সরকারের শাসনামলে (২০০৭-২০০৮) খাদ্যদ্রব্যের দাম খুব বেড়ে গিয়েছিল। সাধারণ মানুষ আশা করেছিল, নির্বাচিত সরকারের আমলে নিত্যপণ্যের দাম কমে আসবে। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী লীগের চার বছরে চালের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও চিনি, পেঁয়াজসহ কয়েকটি পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছিল। বাজারে কয়েক দফায় চিনি ও তেলের সঙ্কটের পর দাম বেড়ে গিয়েছিল। পরে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও দাম তেমন একটা কমেনি। বরং ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী সরকার নতিস্বীকার করে চিনি ও তেলের দাম দফায় দফায় বাড়িয়ে দিয়েছে। খাদ্য অধিদফতর ভর্তুকির চাল ও আটা ওএমএসের মাধ্যমে কম দামে বিক্রি করে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। আলোচিত-সমালোচিত ফারুক খানকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেয়া হলেও খাদ্যদ্রব্যের দাম কমতে দেখা যায়নি, বরং বিভিন্ন অজুহাতে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে।
তুলনামূলক দাম : গত ২৮ অক্টোবরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। বাংলাদেশ ট্রেডিং করপোরেশনের (টিসিবি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, প্রায় সবক’টি পণ্যের দাম বেড়েছে। কোনো কোনো পণ্যের দাম দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। টিসিবির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের দিন ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি এক হালি মুরগির ডিমের দাম ছিল ২৩ থেকে ২৫ টাকা। চার বছরের ব্যবধানে একই ডিমের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। অর্থাত্ প্রতি হালিতে ডিমের দাম বেড়েছে ১৫ টাকা। একইভাবে ১৪-২০ টাকার লবণ বিক্রি হচ্ছে ১৮-৩০ টাকায়, অর্থাত্ প্রতি কেজি লবণে ৪-১০ টাকা বেড়েছে। ২৩-২৫ টাকার খোলা আটার দাম চার বছরের ব্যবধানে ৩৫-৩৬ টাকা, ৩২-৩৮ টাকার ময়দা বেড়ে ৪২-৪৮ টাকা, খোলা সয়াবিন ৮৮-৯৪ টাকা থেকে বেড়ে ১১০-১১২ টাকা এবং মানভেদে ৭৬ থেকে ১০৫ টাকার মসুর ডালের দাম বেড়ে ১৪২ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজ ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ২০০৯ সালে অন্যান্য পণ্যের মধ্যে প্রতি কেজি ভালো মানের নাজির/মিনিকেট ৩৩-৩৮ টাকা, সাধারণ মানের নাজির/মিনিকেট ৩৩-৩৮, ভালো মানের পাইজাম/লতা চাল ৩৩-৩৪ ও সাধারণ মানের পাইজাম/লতা চাল ৩২-৩৩, মোটা চাল স্বর্ণা/চায়না ২৯-২৯, মসুর ডাল ৭৬-১০৫, ছোলা ৩৫-৪০, পেঁয়াজ ৩০-৩৬, রসুন ২৪-৩২, শুকনা মরিচ ৯০-১১০, হলুদ ৯৫-১১০, গরুর মাংস ২১০-২২০ ও খাসির মাংস ৩২০-৩৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর খুচরা বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সব পণ্য বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ানবাজারে তুলনামূলক কম দামে পণ্য বিক্রি হয়। পাশাপাশি পাইকারি ও খুচরা বাজার থাকায় এখানে কম দামে পণ্য বিক্রি করতে পারেন ব্যবসায়ীরা। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ শাসনামলের চার বছরেই খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়েছে। টিসিবি তথ্য অনুযায়ী, গতকাল এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৩০-১৩৫ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ১১০-১১২, খোলা পাম তেল ৭২-৭৪, ভালো মানের নাজিরশাইল ৪৬-৪৮, সাধারণ মানের নাজিরশাইল ৩৪-৪৫ ও মোটা চাল স্বর্ণা ৩২-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য পণ্যও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। খোলা আটা ৩৫-৪০ টাকা, প্যাকেটজাত আটা ৩৮-৪০, খোলা ময়দা ৪২-৪৪, প্যাকেটজাত ময়দা ৪৬-৪৮, চিনি ৫০, ভালো মানের মসুর ডাল ১৩৮-১৪০, মুগ ডাল ১০০-১১৫ ও দেশি পেঁয়াজ ৪০-৪৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। টিসিবির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী গত এক সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৫ টাকা বেড়ে ১৫০-১৫৫ টাকা, আদা (মানভেদে) ১০ টাকা বেড়ে ৬০-৭০, ডিম ২ টাকা বেড়ে ৩৮-৪০, খোলা আটা ২ টাকা বেড়ে ৩৫-৩৬, প্যাকেট আটা ২ টাকা বেড়ে ৩৮-৪০ ও আলু ৩ টাকা বেড়ে ২৮-৩০ টাকা হয়েছে।
বিএনপি ও আ’লীগের শাসনামলে তুলনামূলক বাজারদর : বিএনপি শাসনামলের শেষ বছর ২০০৬ সাল ও আওয়ামী লীগ সরকারের গতকালের টিসিবির প্রকাশিত তথ্য ও বাজার দর পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে। বিএনপি সরকারের শেষ সময়ে মোটা চালের কেজি ছিল ১৭ টাকা। সেই চাল শত ভাগ দাম বেড়ে এখন ৩০-৩২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। একইভাবে ২৪ টাকার নাজিরশাইল বেড়ে গতকাল ৪৬-৪৮ টাকা দরে বিক্রি হয়ে। বিএনপি ক্ষমতা ছাড়ার সময় চিনির কেজি ছিল ৩৭ টাকা। বর্তমান তা বিক্রি হচ্ছে ৫২-৫৮ টাকায়। এর আগে চিনি ৬৫-৬৮ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বিএনপি খোলা সয়াবিন তেল ৪৮ টাকা রেখে গিয়েছিল। বর্তমানে প্রায় তিন গুণ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৩৫ টাকা। একইভাবে ১৮ টাকা কেজির আটা দ্বিগুণ বেড়ে ৩৫-৪০ টাকা ও আমদানি করা নেপালি মসুর ডাল ৪৫ টাকার পরিবর্তে তিন গুণের বেশি বেড়ে ১৪০-১৪২ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। বিএনপির আমলে আমদানি করা প্রতি কেজি রসুন বিক্রি হতো ২০ টাকায়। গতকাল তা বিক্রি হয়েছে ৭০-৮০ টাকা। একইভাবে অন্যান্য পণ্যের দামও বেড়েছে।
দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ার নেপথ্যে : দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে অর্থনীতিবিদরা বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের চরম ব্যর্থতা, সিন্ডিকেট, দুর্নীতি, অনিয়ম, ভ্রান্ত নীতি অবলম্বন, যথাযথ বাজার মনিটরিং না করা, সরকারি দলের মন্ত্রী, এমপি ও নেতারা সরাসরি ব্যবসা করায় তাদের ওপর সরকারের হস্তক্ষেপ করতে ব্যর্থ হওয়া, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ বৃদ্ধিসহ বেশকিছু কারণে দ্রব্যমূল্য বেড়েছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, বাজার তদারকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। সাবেক বাণিজমন্ত্রী ফারুক খান বাজার তদারকে নিজেই বাজারে গেলেও তাতে কাজ হয়নি। সরকারের তিন বছরে সয়াবিন তেলের বাজার ছিল সব সময়ই অস্থির। আটা-ময়দার দর ছিল নিয়ন্ত্রণহীন, বাজার থেকে উধাও হয়ে যায় চিনি, চালের বাজারও ছিল চড়া। সরকার ক্ষমতা নেয়ার ছয় মাসের মাথায় কাঁচামরিচের কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকায় দাঁড়ায়। বর্তমানে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা। গত রোজার ঈদের আগে বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছিল। তখন প্রতি কেজি ছোলা ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হয়। বিভিন্ন জাতীয় ও ধর্মীয় উত্সবে বাজার চলে গেছে সিন্ডিকেটের কবলে। লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিত ২০১০ সালের আগস্টে একটি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেছেন, দায়িত্ব নেয়ার পর আমি সিন্ডিকেট ভাঙার ঘোষণা দিয়েছিলাম। কিন্তু আজ দুঃখের সঙ্গে বলছি, সিন্ডিকেট আমরা ভাঙতে পারিনি। সিন্ডিকেট ভাঙা কঠিন। আসলে সংসদীয় গণতন্ত্রে সমস্যা এখানেই। বিত্তশালীরা সরকারের ভেতরে ঢুকে প্রভাব বিস্তার করে।
দাম বাড়ার কারণ বলতে গিয়ে ক্যাবের সভাপতি কাজী ফারুক আমার দেশকে বলেন, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে যে ধরনের পদক্ষেপ নেয়া দরকার, তা নিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে সিন্ডিকেট। বর্তমান মহাজোট সরকারের দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্য কোনো না কোনোভাবে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। দাম বাড়ার নেপথ্যে এসব সংসদ সদস্যদেরও ভূমিকা থাকার সম্ভাবনা প্রবল। এছাড়া একশ্রেণীর ব্যবসায়ী ভোক্তাদের জিম্মি করে রেখেছে। তাদের অতি মুনাফা করার প্রবণতা বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। সরকার তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেনি। তিনি দুর্বৃত্ত ব্যবসায়ীদের মনিটরিং করে শাস্তির আওতায় আনার পরামর্শ দেন।
টিসিবির ব্যর্থতা : বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের বড় হাতিয়ার টিসিবি। সিন্ডিকেট ভাঙা ও পণ্যের কৃত্রিম সঙ্কটে টিসিবি বড় ভূমিকা রাখে। অথচ সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে টিসিবি। পণ্য আমদানি, ডিলার নিয়োগসহ সবকিছু দলীয় নেতাকর্মীদের হাতে জিম্মি। ফলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও টিসিবি নিষ্ক্র্রিয় ছিল। সরকারের তরফ থেকে টিসিবিকে শক্তিশালী করার কথা বললেও বাস্তবে তা হয়নি। বিশেষ করে রোজার সময় টিসিবি নিয়ে অনেক আশাবাদ প্রকাশ করলেও কার্যত বাজারে প্রতিষ্ঠানটির কোনো প্রভাব নেই। ভোজ্যতেল, চিনি ও ডালের মতো কিছু পণ্য স্থানীয় বাজার থেকে সংগ্রহ করলেও তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য। দুই থেকে সর্বোচ্চ সাত দিনের চাহিদা মেটানোর মতো পণ্য বাজারে কোনো প্রভাবই ফেলতে পারেনি।

About